সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জাতিসংঘের মরণোত্তর পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

বিশ্বশান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বীরদের প্রতি সম্মান জানানো হবে।

জাতিসংঘের মরণোত্তর পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বশান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ।

আগামী ৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বীরদের প্রতি সম্মান জানানো হবে।

জাতিসংঘের দাপ্তরিক সূচি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস স্বহস্তে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেবেন। সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে এই অনন্য পদকের জন্য মনোনীত বাংলাদেশি সদস্যরা হলেন মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্ত মণ্ডল। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় তারা সকলেই শাহাদাতবরণ করেন।

স্মরণসভার এই বিশেষ আয়োজনে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে গিয়ে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার সদস্যের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এর পাশাপাশি বিগত বছরে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন শান্তিরক্ষীকেও মরণোত্তর এই পদক দিয়ে সম্মানিত করা হবে।

সৈন্য ও পুলিশ সদস্য পাঠানোর দিক থেকে বর্তমানে বৈশ্বিক তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে আবেই, কঙ্গো, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিশনে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ মোট চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন সংঘাতময় অঞ্চলে ৫০ হাজারেরও বেশি সামরিক, বেসামরিক ও পুলিশ সদস্য নিয়োজিত আছেন এবং বিশ্বের ১১টি সক্রিয় মিশনে ১১৮টি দেশ তাদের জনবল দিয়ে সহযোগিতা করছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২৯ মে তারিখটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে সংস্থাটির প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন চালুর দিনটিকে স্মরণ করেই এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের দিবসের মূল ভাবাদর্শ বা প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আর্থিক সহযোগিতার গুরুত্বকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মাঠপর্যায়ে কর্মরত সকল শান্তিরক্ষীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তাদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের মনে আশার আলো টিকিয়ে রাখার জন্য শান্তিরক্ষা মিশন একটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও কার্যকর মাধ্যম, তবে এর ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে হলে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য। অন্যদিকে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বলেন, চরম প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও শান্তিরক্ষীরা সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে এবং সংঘাতের তীব্রতা কমিয়ে আনতে অনন্য অবদান রাখছেন। এই পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ আরও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কারও বিতরণ করা হবে।