সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ঝালকাঠিতে শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বীর জামায়াতে যোগদান

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নে শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

ঝালকাঠিতে শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বীর জামায়াতে যোগদান
ছবি: সংগৃহীত

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নে শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে ইউনিয়নের এক অনুষ্ঠানে তাঁরা দলটিতে যোগ দেন। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের একটি ধর্মীয় ঘরানার রাজনৈতিক দলে যোগদানের বিষয়টি জেলায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এই যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম। তাঁরা নবাগতদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

যোগদানকারী কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা সুজিত ঘরামী বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক অবস্থান, সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং তাঁদের সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। কোনো প্রকার চাপ ছাড়াই আমরা স্বেচ্ছায় এই দলে যুক্ত হয়েছি।”

অনুষ্ঠানে শেখ নেয়ামুল করিম বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে রাজনীতি করে। আমাদের এখানে কোনো ধর্মীয় বিভাজন নেই। সমাজে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সব ধর্মের মানুষ আমাদের পতাকাতলে আসছেন।”

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় জামায়াত সবসময় সোচ্চার। সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ছে বলেই আজ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও আমাদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। আমরা সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় এই যোগদান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও জামায়াত নেতারা একে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নতুন উদাহরণ’ হিসেবে দেখছেন।