বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ঝিনাইদহে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৫ আসামি গ্রেফতার

ঝিনাইদহের মহেশপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে অপরাধের ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সকল অভিযুক্ত আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঝিনাইদহে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৫ আসামি গ্রেফতার
ছবিঃ সংগৃহীত

ঝিনাইদহের মহেশপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে অপরাধের ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সকল অভিযুক্ত আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার ১১ এপ্রিল জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানান, গত ৩১ মার্চ মহেশপুরের বাগদিয়ার আইট গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর পায় পুলিশ। শুরুতে ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত থাকলেও আইনি সুরক্ষার নিশ্চয়তা পেয়ে গত ২৭ মার্চ ভুক্তভোগীর ফুফু বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মহেশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৬ মার্চ রাতে ভুক্তভোগী তার প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে তার প্রেমিক তাকে লাঞ্ছিত করে। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রেমিককে মারধর করে সরিয়ে দেয় এবং ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় এক অভিযুক্ত পুরো ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে জিম্মি করার চেষ্টা চালায়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের সরাসরি নির্দেশনায় মহেশপুর, চুয়াডাঙ্গা ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে প্রত্যেকেই অপরাধের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারা মোতাবেক ভুক্তভোগীর বক্তব্যও আদালতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনা ঘটার ছয় দিন পর ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ নিয়ে আসে। দ্রুততম সময়ে ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন দুটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই জঘন্য অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।