শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জলবায়ু-সহনশীল ‘ডিজিটাল ই-হেলথ সিস্টেম’ গড়ে তোলার কাজ চলছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করে দেশে একটি পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো বিনির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

জলবায়ু-সহনশীল ‘ডিজিটাল ই-হেলথ সিস্টেম’ গড়ে তোলার কাজ চলছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করে দেশে একটি পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো বিনির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

দেশের চিকিৎসা খাতের তথ্যপ্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি যুগোপযোগী ও জলবায়ু-সহনশীল ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে ইউএনওপিএস বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি চিত্র তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর দেশের প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি ও স্বাস্থ্যগত সংকট সামাল দিতে সরকার দেশের উপজেলা স্তরের হাসপাতালগুলোতে উন্নত ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। বর্তমানে চলমান একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতার ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে দেশজুড়ে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের নাগরিকদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্লাবিত ও বিচ্ছিন্ন চর এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শুধু স্থলভাগের মোবাইল ভ্যান যথেষ্ট নয়। এর জন্য জলপথকে ব্যবহার করে নৌকা-ভিত্তিক বিশেষ ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল বা বোট ক্লিনিক চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এটি দেশের দুর্গম অঞ্চলের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে একটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান স্থায়ীভাবে উন্নত করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘চর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠার যে দাবি তিনি আগে তুলেছিলেন, এই অনুষ্ঠানেও তিনি পুনরায় তার সেই আহ্বানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।