কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় একটি কবরস্থানের মাটি ভরাট করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাতপাখিয়া ও বড়ইচারা গ্রামের মানুষের মধ্যে ঘটা এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতপাখিয়া ও বড়ইচারা গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি সাধারণ কবরস্থান ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি ওই কবরস্থানের নিচু জমি ভরাট ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকালে এক পক্ষ মাটি ভরাটের কাজ শুরু করলে অন্য পক্ষ তাতে বাধা দেয়। এর জের ধরে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
সাতপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুজন শেখ অভিযোগ করেন, তারা কবরস্থানের উন্নয়নে কাজ করতে গেলে বড়ইচারা গ্রামের কয়েকশ মানুষ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে, বড়ইচারা গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের পুরনো এই কবরস্থানের গাছ সাতপাখিয়া গ্রামের কিছু লোক তাদের না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে আসছিলেন। এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই আজকের ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শিবলী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। এই ঘটনায় এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি; তবে লিখিত অভিযোগ পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।