বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে ক্ষতির মুখে চা শিল্প

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চা শিল্প। ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) চা বাগানগুলোতে গত পাঁচ দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সময়মতো প্রক্রিয়াজাকরণের অভাবে এনটিসির পাঁচটি চা বাগানে উত্তোলিত প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কাঁচা চা পাতা বিনষ্ট হয়েছে। এতে বাগান কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।

কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে ক্ষতির মুখে চা শিল্প
ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চা শিল্প। ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) চা বাগানগুলোতে গত পাঁচ দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সময়মতো প্রক্রিয়াজাকরণের অভাবে এনটিসির পাঁচটি চা বাগানে উত্তোলিত প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কাঁচা চা পাতা বিনষ্ট হয়েছে। এতে বাগান কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।

জানা যায়, উপজেলার এনটিসির পাত্রখোলা, মাধবপুর, কুরমা, চাম্পারায় ও মদনমোহনপুর চা বাগানে সম্প্রতি উত্তোলিত প্রায় আড়াই লাখ কেজি কাঁচা চা পাতা ইতিমধ্যে বিনষ্ট হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া গেলে এগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ৬০ হাজার কেজি তৈরি চা পাওয়া যেত, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে একদিকে কাঁচা পাতা বিনষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে উৎপাদন খরচও বাড়ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলায় এনটিসি, ডানকান ব্রাদার্স, চা বোর্ড, দেউন্দি টি কোম্পানিসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ফাঁড়ি বাগান মিলিয়ে মোট ২২টি চা বাগান রয়েছে। চা প্রক্রিয়াজাত করার ধাপগুলো অত্যন্ত সময়-সংবেদনশীল হওয়ায় পাতা তোলার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করলে চায়ের স্বাভাবিক স্বাদ ও গুণমান নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই বর্তমান লোডশেডিং সরাসরি উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলছে।

এনটিসি সূত্র জানায়, গত ১৩ই এপ্রিল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমতে শুরু করে। বিশেষ করে ২৫ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত গড়ে মাত্র সাড়ে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে। এতে চা কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রচুর পরিমাণে কাঁচা চা পাতা উত্তোলিত হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার রোলার ও মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে পাতা পচে যাচ্ছে অথবা বাজারজাতকরণের মান হারাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গত ২৭ এপ্রিল অকশনের আগে এই পাঁচটি চা বাগানের উৎপাদিত ৫১ হাজার কেজি চা বিক্রি করা হয়, যার বাজারমূল্য ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলে বিক্রির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতো।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) ডিজিএম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "বর্তমানে বিদ্যুৎ বিপর্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ২৫ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দিনে মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। ফলে কারখানা চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে উত্তোলিত পাতাগুলো নষ্ট হচ্ছে।" তিনি দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।