বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসে ৩০ জনের মৃত্যু, ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর একটি আশ্রয় শিবিরে ইবোলার মতো লক্ষণ নিয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসে ৩০ জনের মৃত্যু, ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর একটি আশ্রয় শিবিরে ইবোলার মতো লক্ষণ নিয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতদের সবার মধ্যেই তীব্র মাথাব্যথা, উচ্চ তাপমাত্রা এবং বমির মতো উপসর্গ দেখা গিয়েছিল বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে শিবিরের মুখপাত্র, এক ভুক্তভোগী অভিভাবক এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা।

উক্ত আশ্রয় শিবিরের মুখপাত্র ডিজায়ার গ্রোডিয়া বাপি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, অতীতে এই অঞ্চলে কখনো এমন আকস্মিক ও ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সাধারণত এই শিবিরে প্রতি মাসে বড়জোর এক থেকে তিনজনের মৃত্যুর রেকর্ড থাকে, সেখানে কেবল চলতি সপ্তাহেই প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন।

বর্তমানে এই শিবিরে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ বসবাস করছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেখানে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে এই মারাত্মক রোগটি ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানকার অত্যন্ত দুর্বল পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকের কাছে গিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করানোর বিষয়ে সাধারণ মানুষের অনীহা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলছে।

ক্যাথলিক সাহায্য সংস্থা ক্যারিতাসের পরিচালক জাস্টিন জানামুজি এ প্রসঙ্গে জানান, তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা মৃত ব্যক্তিদের স্বজনদেরকে ল্যাব পরীক্ষার জন্য মরদেহ হস্তান্তরের অনুরোধ করলেও তারা কোনোভাবেই এতে সম্মতি দিচ্ছেন না। তবে শিবিরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোনোমতে ৫ জনের শারীরিক নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলোর ল্যাব রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের মতে, ইবোলার মতো মারাত্মক ভাইরাস প্রতিরোধে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই রোগটি মূলত মানবদেহের তরল বর্জ্য ও নালজাতীয় পদার্থের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাস্তুচ্যুত এই বিশাল জনগোষ্ঠী এখন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জাতিসংঘের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কঙ্গোর স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন খাতে বৈশ্বিক বরাদ্দের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে মাত্র ৩৮ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। চলতি বছরের জরুরি স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় ৮০ মিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানানো হলেও, এখন পর্যন্ত তার মাত্র এক-পঞ্চমাংশ বা ২১ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যা চলমান সংকটকে আরও প্রকট করে তুলছে।