বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ ,আহত ১০

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কোটবাড়িতে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে এই সংঘাত বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ ,আহত ১০
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কোটবাড়িতে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে এই সংঘাত বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে এক শিক্ষার্থীকে ‘গুপ্ত শিবির’ বলা এবং পরবর্তীতে তাকে শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাফিস আব্দুল্লাহকে থাপ্পড় মারার ঘটনার বিচার চাইতে সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান ছাত্রশিবিরের নেতারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অধ্যক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও শিবির নেতারা তাৎক্ষণিক বিচারের দাবিতে অনড় থাকেন। এই সময় খবর পেয়ে ছাত্রদলের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এই ঘটনায় কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আহমেদ অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘গুপ্ত’ শব্দ ব্যবহারের জেরে তাদের কর্মী নাফিসকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে প্রমাণের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়ার সময় ছাত্রদল কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় পলিটেকনিক শাখা শিবিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে, ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কমিটি নেই দাবি করে সংগঠনটির কর্মী ইমন আহমেদ জানান, ঘটনার মূল কারণ ছিল হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব। তার দাবি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই মূলত শিবিরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

পুরো বিষয়টি নিয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মাজারুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়নি। বিকেলে একজন শিক্ষার্থীকে চড় মারার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই হঠাৎ এই সংঘর্ষের অবতারণা হয়। তিনি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন, কিন্তু কমিটি কাজ শুরু করার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।