গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ইরানের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার।
শনিবার (১৪ মার্চ) ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৩ হাজার বেসামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফাতেমেহ মোহাজেরানি ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ৪৩ হাজার ইউনিটের মধ্যে ৩৬ হাজার ৫০০টিই সাধারণ মানুষের আবাসিক ভবন। এর মধ্যে কেবল রাজধানী তেহরানেই ১০ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই হামলা থেকে জীবন রক্ষাকারী জরুরি সেবা কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও রেহাই পায়নি। সরকারি তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৪৩টি জরুরি সেবা কেন্দ্র, ১২০টি স্কুল এবং ৩২টি অ্যাম্বুলেন্স সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির একটি চিত্রও সরকারের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। মোহাজেরানি জানান, চলমান এই সংঘাতের বলি হয়েছেন অন্তত ২২৩ জন নারী। এছাড়া নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৬ জনে। সাধারণ জনগণের ওপর এই ধরনের আক্রমণকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিও তাদের এক প্রতিবেদনে আবাসিক ভবনগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।