সোমবার, 21 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

রাষ্ট্রপতির আদেশে এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় শাস্তির মুখে পড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তাদের করা আপিল আবেদন গ্রহণ করে আগের শাস্তির আদেশ বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশে এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ
গত বছর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি। ছবি: সংগৃহীত

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় শাস্তির মুখে পড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তাদের করা আপিল আবেদন গ্রহণ করে আগের শাস্তির আদেশ বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার এ বিষয়ে পৃথক ২০টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

রাষ্ট্রপতির আদেশে শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) জাকির হোসেন, অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ম, আমীমুল ইহসান ও সাধন কুমার কুণ্ডু।

এ ছাড়া যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান ও সানোয়ারুল কবির; উপ কর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম ও শাহাদাৎ জামিল এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর রয়েছেন এ তালিকায়।

প্রজ্ঞাপনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর ২৪ জুন জাতীয় রাজস্ব ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেন ওই কর্মকর্তারা। এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা “সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯” লংঘন করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির প্রতিবাদে ওই সময় এনবিআরের প্রধান কার্যালয় অবরুদ্ধ করে আন্দোলন করা হয়। পাশাপাশি সারা দেশে দুই দিনের কর্মবিরতি পালন করেন কর্মকর্তারা। কর্মসূচির কারণে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে।

এরপর এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা চেয়ারম্যানকে সংস্থার কার্যালয়ে 'অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন এবং দাবি আদায়ে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরের সেবাকে 'অত্যাবশকীয়' সেবা হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় পাঁচ উপদেষ্টাকে নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।

পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে যান। তবে এরপর আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে সরকার।

ওই সময় ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে এনবিআরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়। এসব শাস্তির মধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর, সাময়িক বরখাস্ত এবং বেতন গ্রেড অবনমনের মতো পদক্ষেপও ছিল।

তবে শাস্তিপ্রাপ্ত ২০ কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মার্জনার জন্য আপিল আবেদন করেন। সেই আবেদন মঞ্জুরের পর তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া আগের শাস্তির আদেশ বাতিল করা হলো।