পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরে চাল বিতরণের সময় উপকারভোগীরা অভিযোগ করেন যে, সরকারিভাবে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তাদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৯ কেজি করে। বিতরণের সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন না।
ভুক্তভোগী কহিনূর বেগম নামের এক বৃদ্ধা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তাকে যে চাল দেওয়া হয়েছে, তা বাড়িতে নিয়ে মেপে দেখেন ৯ কেজিরও কম। একই অভিযোগ করেন শিশু কোলে নিয়ে চাল নিতে আসা লাইজু বেগমও। তিনি জানান, পরিষদের ভেতরে অতিরিক্ত ভিড় ও অব্যবস্থাপনার কারণে তাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এবং তিনিও বরাদ্দের চেয়ে কম চাল পেয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় অনেক দিনমজুরের অভিযোগ, সচ্ছল ব্যক্তিরা কার্ড পেলেও প্রকৃত অভাবী অনেককেই কোনো স্লিপ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব দিদারুল আলম জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১ হাজার ২৮৪ জন উপকারভোগীর জন্য মোট ১২ টন ৮৪০ কেজি চাল বরাদ্দ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেকের ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও কেন কম দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, চেয়ারম্যান তাদের সাড়ে ৯ কেজি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তদারকি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ মণ্ডলের দাবি, চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হচ্ছে এবং এতে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত জানিয়েছেন, চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।