আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই উচ্চপর্যায়ের সভা সম্পন্ন হয়। বৈঠকে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গত আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে থানা থেকে খোয়া যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সেনাপ্রধান সভায় জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে সর্বমোট ৩ হাজার ৬১৯টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। গত কয়েকমাসের নিরবচ্ছিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা লুণ্ঠিত অস্ত্রের মোট পরিমাণের ৬২.৪ শতাংশ। অবশিষ্ট ১ হাজার ৩৬০টি অস্ত্র উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান জোরদার রয়েছে।
গোলাবারুদ উদ্ধারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আরও জানান, থানাগুলো থেকে সে সময় ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদ খোয়া গিয়েছিল। বর্তমানে এর মধ্যে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট পরিমাণের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৫২ শতাংশ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাকি গোলাবারুদগুলোও দ্রুততম সময়ে খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া চলমান আছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তা দিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বস্তিদায়ক নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমানে নেওয়া নিরাপত্তা পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে জাতিকে একটি সম্পূর্ণ সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।