মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অধ্যাদেশ বাতিল ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজপথে ১১ দলীয় জোট, বিএনপিকে হুঁশিয়ারি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে প্রবর্তিত গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ তাদের কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সংসদীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রথমবারের মতো রাজপথে অবস্থান নিয়েছে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এমন রাজনৈতিক উত্তাপের নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।

অধ্যাদেশ বাতিল ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজপথে ১১ দলীয় জোট, বিএনপিকে হুঁশিয়ারি
ছবিঃ সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে প্রবর্তিত গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ তাদের কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সংসদীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রথমবারের মতো রাজপথে অবস্থান নিয়েছে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এমন রাজনৈতিক উত্তাপের নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি অত্যন্ত চতুরতার সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া এড়িয়ে গিয়ে গণভোটের আকাঙ্ক্ষাকে অবজ্ঞা করেছে, যা মূলত দেশবাসীকে অপমান করার শামিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংস্কারের মূল ধারাকে পাশ কাটিয়ে যদি পুনরায় কোনো পক্ষ ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করতে চায়, তবে তাদেরও অতীতের ফ্যাসিবাদের মতোই করুণ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সংবিধানের কেবল সাধারণ সংশোধন নয়, বরং আমূল সংস্কারের প্রশ্নে দেশের সকল রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। তিনি অভিযোগ তোলেন যে, রাষ্ট্রক্ষমতা একক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রাখার হীন উদ্দেশ্য থেকেই বিএনপি এখন গণভোটের বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে সুবিধাবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের রায়কে যদি কোনোভাবে অবজ্ঞা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

বিক্ষোভ সমাবেশের মূল পর্ব শেষে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে এক বিশাল মিছিল বের করা হয়। বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে জোটের কয়েক হাজার নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে নাইটিঙ্গেল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সংবিধান সংস্কার ও অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এই মুখোমুখি অবস্থান দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।