মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম সংলগ্ন ডহরি খালের প্রবেশদ্বারে ধলেশ্বরী নদীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ চক্রের ১০ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ।
অভিযানকালে তাঁদের কাছ থেকে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগামী নৌকা, দুটি ধারালো দা, ছয়টি মুঠোফোন, দুটি টর্চলাইট এবং সাতটি কাঠের ডাসা উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক দাপ্তরিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মাবুদ।
বিজ্ঞপ্তির বিবরণী থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আব্দুল মাবুদের সরাসরি নেতৃত্বে ধলেশ্বরী নদীতে নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল দিচ্ছিল পুলিশের একটি দল। টহল চলাকালীন মিরকাদিম এলাকার ডহরি খালের মুখ ও ধলেশ্বরী নদীর মিলনস্থলে একটি নৌকার গতিবিধি ও অবস্থান সন্দেহজনক মনে হলে নৌ-পুলিশের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টার সময় নৌকাটিতে থাকা ১০ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের শরীর ও নৌকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করে ডাকাতির উদ্দেশ্যে আনা দেশীয় অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ধৃত আসামিরা হলেন—সাদ্দাম হোসেন (৩৮), বোরহান উদ্দিন (২৮), মো. রোমান (২৩), তারা মিয়া (৩৮), ইউনুস আলী (৩৮), ইসমাইল হোসেন (২৭), আব্দুর রহমান (২৭), সুলাইমান (৩৪), শরীফ হোসেন (৩২) ও মো. আরমান (২৩)।
নৌ-পুলিশের সূত্রগুলো জানায়, এর আগে গত ৮ জুন গজারিয়া উপজেলার লস্করদী এলাকা থেকে এই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের মূল সর্দার মো. জাকির হোসেন এবং তার প্রধান সহযোগী মুক্তার ওরফে কালামুক্তারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিল পুলিশ। কারাবন্দী ওই শীর্ষ দুই অপরাধীর দেওয়া জবানবন্দি ও গোপন তথ্যের সূত্র ধরেই এই বিশেষ অভিযানটি চালানো হয়, যার সফল পরিণতিতে ১০ সদস্যের পুরো দলটিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগাদি এলাকায় একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ধলেশ্বরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সুযোগ বুঝে মালবাহী ও যাত্রীবাহী জলযানগুলোতে তাঁরা নিয়মিত জলদস্যুতা ও ডাকাতি করে আসছিলেন।
মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আব্দুল মাবুদ জানান, গজারিয়ায় গ্রেপ্তার হওয়া পূর্ববর্তী দুই ডাকাতের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান সফল হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সকল অপরাধীর স্থায়ী বসতবাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। নৌপথকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন