এসএসসি পরীক্ষায় উত্তরপত্র দেখতে না দেওয়ায় সহপাঠীকে ক্ষুর দিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় চার পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, আহত পরীক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন জিহানের বাবা মো. আলমগীর বাদী হয়ে রোববার রাতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো— সাজিদ হোসেন রাফি (১৭), নওশীন ইসলাম রামীম (১৭), মোশারফ হোসেন (১৭) এবং মুক্তাদুল ইসলাম মাহিদ (১৭)। তারা সবাই উপজেলার করেরহাট কামেনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালীন বারইয়ারহাট পৌর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন জিহান ও মুনায়েমের কাছে উত্তরপত্র দেখতে চায় করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন পরীক্ষার্থী। উত্তরপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানালে পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে ১০-১২ জন পরীক্ষার্থী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ক্ষুর দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে অন্য সহপাঠীরা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলায় জিহানের শরীরে ১৯টি এবং মুনায়েমের শরীরে ৩২টি সেলাই লেগেছে।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, পরীক্ষার হলে খাতা দেখাদেখিকে কেন্দ্র করে দুই পরীক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে চার কিশোরকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।