আজ সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ দক্ষিণের উপপুলিশ কমিশনার তরিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা চক্রটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জানান, এই চক্রের নারী সদস্যরা কখনো সরাসরি, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে সুকৌশলে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচিত হতেন। এরপর নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের পূর্বনির্ধারিত ফ্ল্যাটে ডেকে নিতেন। সেখানে ভুক্তভোগীদের জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হতো। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানহানির ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে উপপুলিশ কমিশনার জানান, গত ১৫ এপ্রিল বেসরকারি একটি আর্থিক ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় এই চক্রের এক নারী সদস্যের পরিচয় হয়। নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তাকে একটি বাসায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি সেখানে গেলে চক্রের অন্য সদস্যরা তাকে জিম্মি করে জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে, গত শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই হানিট্র্যাপ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত ও সাধারণ এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। ইতিমধ্যেই তাদের মোবাইল ও ডিভাইস পরীক্ষা করে একাধিক ব্যক্তিকে একইভাবে ব্ল্যাকমেইলিং করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের অপরিচিত বা স্বল্পপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এবং এই ধরনের প্রলোভন বা ফাঁদ থেকে বাঁচতে আরও বেশি সতর্ক ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।