আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিচালন ও প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে সর্বমোট ১৮৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার রাজস্ব বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বর্তমান ১৯ হাজার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থীর আনুপাতিক হার বিবেচনায় নিলে, আগামী অর্থবছরে শিক্ষার্থী প্রতি বার্ষিক গড় বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৪ হাজার ৬৮৮ টাকা। দেশের মোট ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) জন্য সরকার অনুমোদিত মোট ১২ হাজার৩০০ কোটি ৪০ লাখ টাকার মূল বাজেটের অংশ হিসেবে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ১৮৭তম পূর্ণ কমিশন সভায় দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের এই নতুন আর্থিক পরিকল্পনা ও বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। ঘোষিত সরকারি এই বাজেটের বিন্যাস অনুযায়ী, দেশের ৫৮টি স্বায়ত্তশাসিত ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সম্মিলিতভাবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এছাড়া তদারকি সংস্থা ইউজিসির নিজস্ব দাপ্তরিক ও পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য পৃথকভাবে ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দকৃত মোট অর্থের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সাধারণ বা রাজস্ব ব্যয় খাতে ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন চলমান ও নতুন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও উচ্চতর গবেষণা খাতে গতিশীলতা আনতে নতুন অর্থবছরে কাঠামোগত সংস্কার এনেছে ইউজিসি। উচ্চশিক্ষালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রমে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়াতে এবং একই বিষয়ে বারবার গবেষণার প্রবণতা দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব গবেষণা বাজেট ও ইউজিসির কেন্দ্রীয় তহবিল একীভূত করা হয়েছে। এই নতুন নিয়মের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের নির্ধারিত ২০০ কোটি টাকা ইউজিসির মূল বাজেটের অধীনে স্থানান্তরিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে ইউজিসির নিজস্ব গবেষণা খাতের সামগ্রিক তহবিলের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিতদের বৈদেশিক স্কলারশিপ বা বৃত্তির জন্য আরও ১২ কোটি টাকা যুক্ত হওয়ায় এই বিশেষ খাতের মোট বরাদ্দ উন্নীত হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকায়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীতিনির্ধারক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসন সংকট নিরসন, ল্যাবরেটরি ও শ্রেণিকক্ষের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সময়মতো সমাপ্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আগামীতে আরও বড় অঙ্কের আর্থিক সংস্থান প্রয়োজন। তবে সীমাবদ্ধতার মাঝেও নতুন অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত এই ১৮৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার রাজস্ব বাজেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক গতিশীলতা রক্ষা, প্রশাসনিক কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনায় ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।