শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে যা হলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব উত্তেজনা ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে সংসদ কক্ষের ভেতরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। পরবর্তীতে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে তারা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ বা ওয়াকআউট করেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে সংসদে যা হলো
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে সংসদ কক্ষের ভেতরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। পরবর্তীতে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে তারা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ বা ওয়াকআউট করেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। ওই সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম কথা বলার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। মাইক না পেয়ে তিনি নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় বিরোধী দলের অন্যান্য সদস্যরাও নানা স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পিকার বারবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ জানালেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে এনসিপি সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এই হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারিত আসনে এসে উপস্থিত হলে স্পিকার তাকে ভাষণ শুরু করার অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দেওয়ার জন্য দাঁড়ালে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি তার যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তিনি বিগত শাসনব্যবস্থার অনুসারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। এ সময় অন্য সদস্যরাও উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে থাকলে রাষ্ট্রপতি কিছুটা সময় নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকেন।

বিরোধী দলের সদস্যরা যখন 'লজ্জা লজ্জা' বলে বিদ্রূপ করছিলেন, সেই প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার ভাষণ চালিয়ে যান। সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্পিকারের বারবার আহ্বান সত্ত্বেও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ওয়াকআউটের ঘোষণা দিলে বিরোধী দলের সব সদস্য সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তার ভাষণ সম্পন্ন করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। তবে ওই দিনের বাকি সময় বিরোধী দলের কোনো সদস্যকে আর সংসদ অধিবেশনে ফিরে আসতে দেখা যায়নি।