সোমবার, 21 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বিএনপির সমালোচনা করতেই সংসদে হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ রুমিনের

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সার সংকট, দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপির মতো সমস্যা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে বিএনপির সংসদ সদস্যরা আপত্তি জানিয়ে হট্টগোল শুরু করেন।

বিএনপির সমালোচনা করতেই সংসদে হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ রুমিনের

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিএনপি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় দলটির সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে রুমিন তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সার সংকট, দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপির মতো সমস্যা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে বিএনপির সংসদ সদস্যরা আপত্তি জানিয়ে হট্টগোল শুরু করেন।

রুমিন বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।’

এরপর তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না সেটাও হওয়া সম্ভব না, মাননীয় স্পিকার।’

এ বক্তব্যের পর বিএনপির সংসদ সদস্যরা আরও জোরালোভাবে প্রতিবাদ করতে থাকেন। হট্টগোলের মধ্যেই রুমিন বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণ খেলাফিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হইতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণ খেলাপি হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।’

হট্টগোল পরিস্থিতির মধ্যে রুমিন বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে সমালোচনা করার সময়ও একই ধরনের হট্টগোলের মুখে পড়তে হয়েছে, এখন বিএনপিও তার চেয়ে খারাপ আচরণ করছে।

হইচইয়ের মধ্যেই রুমিন বলতে থাকেন, ‘এই সংসদে বেশির ভাগ সংসদ সদস্য ঋণ খেলাপি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা, এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহুত দেখেছি।’

একপর্যায়ে রুমিনের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হলে তার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তিনি মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন। এ সময় তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়া হয়েছে বলে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। স্পিকার বারবার তাকে বসার অনুরোধ করলেও তিনি দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে থাকেন।

রুমিনের অভিযোগের সমর্থনে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদকেও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। মাইক ছাড়াই তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।

তখন সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। কিন্তু কিছু সময় ধরে সংসদে হইচই চলতে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, একজন সদস্য বক্তব্য রাখছেন এবং তার কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। অন্য সদস্যরা তার বক্তব্যে বাধা দিলে তা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে যায়।

তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে, তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়।’

রুমিন তখনও দাঁড়িয়ে কথা বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে বসার অনুরোধ করেন। পরে বিলের আলোচনায় অংশ নিতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানকে আহ্বান জানানো হয়। তখনও সংসদে হইচই চলছিল।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার তা রুলিং দিয়ে বাদ দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও বক্তব্যের জবাব দিতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে উনি কি বললেন আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কী গালি দিলেন, না দোয়া দিলেন কিছুই বুঝলাম না। এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন?’

এরপর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তারা সংসদে সব সমস্যার সমাধান চান। তবে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই সমস্যা তৈরি করলে তা সমাধান করা কঠিন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ভঙ্গুর রাজনীতি পেয়েছে। তাই কোনো সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় তারও কিছু বিষয়ে দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। কয়েক দিন আগেই রুমিন বিএনপির পক্ষে কথা বলেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল চিফ হুইপকে তার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও চিফ হুইপের দায়িত্ব। কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে চেয়ার থেকে তা বাদ দেওয়া হবে, কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার সময় বাধা দেওয়া ঠিক নয়।

পরে বিলটির আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি তো বিষয় কী সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি কী বললাম, আলোচনা কী হলো?’ তিনি বলেন, বিলের আলোচনার বাইরে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক একটি বিষয় সংসদে চলে আসা দুঃখজনক।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ছিলেন রুমিন ফারহানা। এবার তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।