সোমবার, 21 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ব্যাংকিং ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সুরক্ষায় সাড়ে ১২ শত কোটি টাকার নতুন উদ্যোগ

ব্যাংকিং ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সুরক্ষায় সাড়ে ১২ শত কোটি টাকার নতুন উদ্যোগ
দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা বৃদ্ধি, নড়বড়ে ব্যাংকগুলোর ভিত শক্ত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক অবকাঠামো গড়তে ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। ‘ফিন্যানশিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ নামের এই বিশেষ কর্মসূচিটির তদারকি ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আগামী ২০২৬ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ কারিগরি উন্নয়ন। ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থ, অর্থাৎ মোট বাজেটের প্রায় ৯৭ শতাংশ বা ১ হাজার ২৪০ কোটি টাকাই ব্যয় করা হবে দক্ষ জনবল তৈরি, তথ্য-প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম কেনাকাটা, বিশেষায়িত সফটওয়্যার সংগ্রহ, ডেটাবেস প্রস্তুত ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শক সেবায়।

প্রকল্পটির অর্থায়নে বড় অংশীদার হিসেবে পাশে দাঁড়াচ্ছে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)। মোট ব্যয়ের ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেবে সংস্থাটি। অবশিষ্ট ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে, যার ফলে সরকারি কোষাগার থেকে এতে কোনো অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন পড়ছে না।

প্রকল্প বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি বা প্রায় ৭১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে তথ্য-প্রযুক্তি সংক্রান্ত নতুন সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য। এছাড়া আধুনিক কম্পিউটার সফটওয়্যার কেনার পেছনে প্রায় ৩৫৫ কোটি টাকা এবং সুরক্ষিত ডেটাবেস তৈরিতে পৌনে আট কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে। সার্বিকভাবে ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার বা মূলধন খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা।

প্রযুক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি কর্মকর্তাকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিতে ৭০ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হবে। একইসাথে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত স্তরে বিশ্বমানের পরামর্শক নিয়োগে আরও সাড় ৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনিক পরিচালন খাতে মোট ১৮৮ কোটি টাকা ধরা হলেও নতুন কোনো যানবাহন না কিনে প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক গাড়ি ভাড়ার নিয়ম করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি, অভ্যন্তরীণ সুশাসনের অভাব এবং বেশ কিছু সরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকে তীব্র তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, পুরাতন প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা দূর করে দেশের সংকটাপন্ন আর্থিক খাতকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করতেই এই রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।