গতকাল সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনাকবলিত হয় যানটি।
দুর্ঘটনার বার্তা পাওয়া মাত্রই সাতক্ষীরা সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল তড়িঘড়ি দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে সফলভাবে শিখা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্বস্তির বিষয় হলো, এই ঘটনায় কোনো ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষতের সৃষ্টি হয়নি।
দমকল বাহিনী সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টা ২৫ মিনিটে বিপদসংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল এবং সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুজ্জামান জানান, মূল হাসপাতাল ভবনের পশ্চিম প্রান্তের গ্যারেজে গাড়িটি লেলহান শিখায় পুড়ছিল। অ্যাম্বুলেন্সটির অতি নিকটেই বিভিন্ন আকৃতির একাধিক অক্সিজেনের আধার বা সিলিন্ডার রাখা ছিল। ওই সিলিন্ডারগুলোর সান্নিধ্যের কারণে আগুনের মাত্রা ও ধোঁয়ার ঘনত্ব সাধারণ রূপ ছাপিয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তরল পানির বদলে বিশেষ ‘ফোম’ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেন। ফোম ব্যবহারের ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শিখা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে পুরো এলাকা বিপদ মুক্ত করা সম্ভব হয়।
উদ্ধারকারী সংস্থার ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক দৃষ্টিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স, যানটির মধ্যকার ব্যাটারি, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং গ্যারেজ কাঠামোর কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের আসল সূত্রপাত কীভাবে এবং মোট কত টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এই বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তা ডা. কুদরত ই খোদা জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সঠিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।