শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে স্পেন। দেশটি ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে শিগগিরই স্পেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে নির্দেশ দেওয়া হবে।
শিশু-কিশোরদের ওপর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও ডেনমার্কের পর এবার একই পথে হাঁটছে স্পেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‘বর্তমান ডিজিটাল পরিবেশ শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়। শিশুরা এমন এক ডিজিটাল পরিসরে প্রবেশ করছে, যেখানে তাদের একা চলার কথা ছিল না। এই পরিসর আসক্তি, নির্যাতন, পর্নোগ্রাফি, অপব্যবহার ও সহিংসতায় ভরা। আমরা আর এ অবস্থা মেনে নেব না। ডিজিটাল ওয়াইল্ড ওয়েস্ট থেকে আমরা তাদের রক্ষা করব।’
স্পেনের প্রস্তাবিত আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ বা ঘৃণামূলক কনটেন্ট দ্রুত সরাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ের বিধান রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে অবৈধ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া বা এর বিস্তার ত্বরান্বিত হলে ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্ম—দুই পক্ষকেই জবাবদিহির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে সানচেজ বলেন, ‘অ্যালগরিদমের মাধ্যমে অবৈধ কনটেন্টের প্রচার ও বিস্তারকে একটি নতুন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। ঘৃণা ছড়ানোর একটি দায় অবশ্যই থাকতে হবে।’
স্পেনের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে হেট স্পিচ বা বিদ্বেষমূলক পোস্ট ঠেকাতে নতুন পর্যবেক্ষণব্যবস্থা চালুর কথাও জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে ঘৃণা ও বিভাজন উসকে দিচ্ছে, তা তথ্যভিত্তিকভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। যুক্তরাজ্যও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ ছাড়া ফ্রান্স ও ডেনমার্ক ১৫ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন