জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে দলটির কাছ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দলটি কি দেশের প্রচলিত সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, নাকি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে রাজনীতি করছে?
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় নেতা স্বর্গীয় সুনীল গুপ্তের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদের সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “গতকালও পার্লামেন্টে আমাদের বিরোধী দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা শরিয়াহ কায়েমের কথা বলেছেন। অথচ গত ১৪ জানুয়ারি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাদের আশ্বস্ত করেছেন তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না।”
তিনি গণমাধ্যমের উদ্দেশে বলেন, কোনো ব্যক্তিগত মন্তব্য করতে চান না জানিয়ে তিনি শুধু জানতে চান—দলটির প্রকৃত অবস্থান কোনটি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তারা কি প্রচলিত সাংবিধানিক আইন অনুসরণ করছে, নাকি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদীয় রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে—এ বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন।
জামায়াতের অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর জন্মলগ্ন থেকেই আমরা দেখেছি তারা ধীরে ধীরে অনেক পরিবর্তন এনেছে। জন্মলগ্নে মওদূদী সাহেব যেটা বলেছিলেন ইসলামি সংবিধান তৈরি করতে হবে। যে কারণে পাকিস্তান জন্মের সময়ও তারা বিরোধিতা করেছিলেন। পরবর্তীকালে আবার তারা পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামো মেনে নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, দলটির কিছু সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও বর্তমান বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে দুইজন অমুসলিম সম্প্রদায়ের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াকে তিনি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করে যে সমাজ এগিয়ে যায়, সেটিই উন্নত ও সভ্য রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে তিনি বহুত্ববাদী চেতনাকে ধারণ করেছিলেন বলেই সুনীল গুপ্তের মতো নেতারা রাজনৈতিক অঙ্গনে জায়গা পেয়েছিলেন।
ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিটি ধর্মের মূল নির্যাস ও মূল্যবোধ একই। ধর্মচর্চা ও আচার-আচরণ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সেই মূল্যবোধের সারবস্তুকে ঐক্যবদ্ধভাবে তুলে ধরা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।”
সুনীল গুপ্ত স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাবু বিজন কান্তি সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নজমুল হক নান্নুসহ অনেকে।