বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল জাতীয় বাজেট কণ্ঠভোটের মাধ্যমে পাস হয়েছে।

সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল জাতীয় বাজেট কণ্ঠভোটের মাধ্যমে পাস হয়েছে।

আগামীকাল বুধবার থেকে দেশজুড়ে নতুন এই আর্থিক রূপরেখা কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন এই বাজেটে দেশের সাধারণ নাগরিকদের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের নীতিমালায় বদল এবং ভ্যাট ব্যবস্থাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংশোধন আনা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে নতুন অর্থবছরের এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে গত সোমবার সুনির্দিষ্ট কিছু ধারা সংশোধনের মাধ্যমে আইনসভায় অর্থবিল পাস করা হয়েছিল। অনুমোদিত এই সংশোধিত অর্থবিলে সাধারণ করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে আবাসন খাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বিনিয়োগ করার যে আইনি সুবিধা ছিল, তা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মেডিকেল কলেজগুলোর করপোরেট করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং সাধারণ খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করে ভ্যাট আরোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়েই মূলত নতুন বছরের কর ও শুল্ক সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় চূড়ান্ত রূপ পায়।

বিগত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। এবারের বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য বা শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’।

পাস হওয়া নতুন বাজেটের হিসাব অনুযায়ী, দেশের সার্বিক উন্নয়ন খাতের জন্য ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সমাপ্ত হতে যাওয়া অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে খাদ্য হিসাব, ঋণ ও অগ্রিম, দেশি-বিদেশি ঋণ পরিশোধ এবং কাঠামোগত সমন্বয় ব্যতিরেকে সরকারের পরিচালন ব্যয় বা অনুন্নয়ন খাতের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে ৬.৭ শতাংশ বেশি। এই পরিচালন ব্যয়ের মধ্য থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারের নেওয়া অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক ঋণের সুদ মেটাতে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের বেতন ও বিভিন্ন ভাতা পরিশোধের পেছনে সরকারের ব্যয় হবে সর্বনিম্ন ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা বিদায়ী সংশোধিত রাজস্ব আয়ের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। এর বাইরে বিভিন্ন বিদেশি উৎস থেকে অনুদান হিসেবে আরও ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে প্রশাসন।

সব মিলিয়ে নতুন বাজেটে আয় ও ব্যয়ের সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে অভ্যন্তরীণ উৎসগুলো থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক উৎসগুলো থেকে আরও ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।