রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বর্জ্যের স্তূপে ঢাকা পড়ছে নরসিংদীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাড়ছে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি

একদিকে সড়কের দুই পাশে জমেছে দিনের পর দিন ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ, অন্যদিকে অসংখ্য খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে নরসিংদীর মদনপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই পচা আবর্জনা ও তরল বর্জ্যের সঙ্গে পানি মিশে তৈরি হচ্ছে দুর্গন্ধময় জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বর্জ্যের স্তূপে ঢাকা পড়ছে নরসিংদীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাড়ছে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি

একদিকে সড়কের দুই পাশে জমেছে দিনের পর দিন ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ, অন্যদিকে অসংখ্য খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে নরসিংদীর মদনপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই পচা আবর্জনা ও তরল বর্জ্যের সঙ্গে পানি মিশে তৈরি হচ্ছে দুর্গন্ধময় জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নরসিংদী পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য মদনপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের আশপাশে ফেলা হচ্ছে। নিয়মিত অপসারণ না হওয়ায় এসব আবর্জনা জমে একেকটি বড় স্তূপে পরিণত হয়েছে। দূর থেকে দেখলে সড়কের দুই পাশে ছোট ছোট পাহাড়ের মতো মনে হয়। এসব বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। পাশাপাশি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে জনস্বাস্থ্যঝুঁকিও।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, শিক্ষার্থী, পথচারী ও সড়কের পাশে বসবাসকারী মানুষ। দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে অনেক পথচারীকে নাক-মুখ চেপে সড়ক পার হতে দেখা যায়।

খানাখন্দে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

শুধু বর্জ্যের কারণে নয়, সড়কের বিভিন্ন অংশের ভাঙাচোরা অবস্থাও পথচারী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি ও কাদা জমে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে মিশে যায় ময়লা ও কালো তরল বর্জ্য।

পানির নিচে থাকা গর্ত দেখতে না পেয়ে মোটরসাইকেল, রিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন বলে স্থানীয়রা জানান। এতে যানবাহনের ক্ষতির পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে জনদুর্ভোগ।

ব্যবসায়ীদেরও বাড়ছে ক্ষতি

চৌয়ালা এলাকার টেক্সটাইল মিল মালিক শাহজাহান সরকার বলেন, ‘‘সড়কে গাড়ি উল্টে অনেক সময় কাপড়ের বেল ময়লা ও কালো পানিতে পড়ে যায়। ওই পানি কাপড়ে লাগলে আলকাতরার মতো দাগ পড়ে। পরে এসব কাপড় আর ব্যবহারযোগ্য থাকে না। এতে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’’

টেক্সটাইল ব্যবসায়ী ফয়সাল বলেন, ‘‘সড়কের বেহাল দশা ও যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ যানজটে পণ্য পরিবহনে সময় নষ্ট হচ্ছে। এতে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’’


দুর্ভোগে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা

স্থানীয় যাত্রী সবুজ মিয়া বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন অবস্থা থাকলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। একটি শিল্পসমৃদ্ধ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এভাবে পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’’

নরসিংদী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জামিল মিয়া বলেন, ‘‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি, খুব কষ্ট হচ্ছে। নাক মুখ চেপে চলাচল করতে হয়, মাঝে মধ্যে দেখি এই গন্ধে কেউ কেউ অজ্ঞানও হয়ে যায়। খুব বাজে অবস্থা।’’

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হলধর দাস বলেন, ‘‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেগুলো পানিতে ডুবে যায়। এতে যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও ঘটছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষায় কাঁদা-পানিতে দুর্ভোগ আরও বাড়ে।’’

স্থানীয়দের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি একই সঙ্গে বর্জ্য ও সড়কের বেহাল দশা—দুই সংকটে পড়েছে। শিল্পাঞ্চল মাধবদীসহ নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকার পণ্য পরিবহনে এটি অন্যতম প্রধান সড়ক হওয়ায় এখানে যানবাহনের চাপও বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কের ক্ষয়ক্ষতি ক্রমেই বাড়ছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ চলছে

নরসিংদী জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, ‘‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ চলছে। বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা শুধু শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করে না, এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও বড় হুমকি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে একটি প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। গত ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের ২৪ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা-ই-রাব্বি বলেন, ‘‘সড়কের দুই পাশে ময়লা ফেলার কারণে পানি জমে রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’