শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সৌদিতে অবস্থিত মার্কিন গোয়েন্দা কার্যালয়ে ইরানের হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এবার সরাসরি আঘাত হানল ড্রোন। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ-এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস চত্বরে সোমবার এক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই কম্পাউন্ডেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা Central Intelligence Agency (সিআইএ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রয়েছে।

সৌদিতে অবস্থিত মার্কিন গোয়েন্দা কার্যালয়ে ইরানের হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এবার সরাসরি আঘাত হানল ড্রোন। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ-এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস চত্বরে সোমবার এক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই কম্পাউন্ডেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা Central Intelligence Agency (সিআইএ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রয়েছে।

এ বিষয়ে অবগত একটি বিশেষ সূত্রের বরাতে বুধবার (৪ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয় জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনটি সম্ভবত ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। তবে এটি নিশ্চিত নয় যে সিআইএ স্টেশনটিই হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল কি না। সংবেদনশীল এ ঘটনার বিষয়ে সিআইএ’র কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সংস্থাটি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

গত শনিবার থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় এই ড্রোন আঘাত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি প্রমাণ করছে যে উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কূটনৈতিক এলাকাও এখন ঝুঁকির বাইরে নয়। হামলার পর সৌদিতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে দূতাবাস ভবনের ছাদের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেতরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়।

যদিও সিআইএ স্টেশনটি সরাসরি টার্গেট ছিল—এমন প্রমাণ মেলেনি, তবে দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতরে অবস্থান করায় গোয়েন্দা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হামলার সময় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে এবং হামলার উৎস শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।

চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। ইরান প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে। অপরদিকে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি ভূখণ্ডে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ের নিকটে এ ধরনের হামলা চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে।