সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সড়কে প্রাণহানি ৭,৩৫৯: মোটরসাইকেলেই ৩৬ শতাংশ মৃত্যু

দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৫ সালে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৯ জন—যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। একই বছরে আহত হয়েছেন আরও ১৬ হাজার ৪৭৬ জন।

সড়কে প্রাণহানি ৭,৩৫৯: মোটরসাইকেলেই ৩৬ শতাংশ মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৫ সালে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৯ জন—যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। একই বছরে আহত হয়েছেন আরও ১৬ হাজার ৪৭৬ জন।

সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৫৮৪। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে নারী ৯৬২ জন এবং শিশু ১ হাজার ৮ জন। নিহতদের ৩৬ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

একই বছরে সড়কের বাইরে অন্যান্য পরিবহন দুর্ঘটনার চিত্রও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩২টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৪৯ জন নিহত, ১২৩ জন আহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। পাশাপাশি ৫১৯টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৭৮ জনের, আহত হয়েছেন ১৫২ জন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌ—এই তিন খাতে দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯৮৬ জনে।

রোড সেফটির পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ৬ হাজার ৯২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৭ হাজার ২৯৪ জন। এক বছরের ব্যবধানে দুর্ঘটনা বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, টিভি চ্যানেল এবং সংস্থাটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৭২ জন। এটি মোট দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৭২৩ জনের—যা মোট নিহতের প্রায় ৭৮ শতাংশ।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “দেশে মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল। এই বাহনের চালকদের বড় অংশ কিশোর ও যুবক। তারা বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজেরা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, অন্যদেরও আক্রান্ত করছেন।”

পরিবহন খাতে শৃঙ্খলার অভাবের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, বাংলাদেশ পুলিশ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত। এর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব প্রকট। প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। জবাবদিহি নেই বললেই চলে। এসব কারণেই সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। দুর্ঘটনাও কমছে না। শুধু বৈঠক, কর্মশালা, কমিটি গঠন ও সুপারিশমালা তৈরির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।”

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনার জন্য ১৩টি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অতিরিক্ত বোঝা বহন, চালকদের অদক্ষতা ও অসুস্থতা, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা না থাকা, দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, এবং বিআরটিএর সক্ষমতা ও জবাবদিহির ঘাটতি। দুর্ঘটনা কমাতে সংস্থাটি ২১ দফা সুপারিশও দিয়েছে।