ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনুমোদন ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না।
রাষ্ট্র পরিচালনা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার ক্ষেত্রে সব ধরনের সিদ্ধান্ত শীর্ষ নেতার পরামর্শ ও সমন্বয়ের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে বলে একটি বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন। সামা টিভির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের সামগ্রিক নীতি নির্ধারণে যৌথ শৃঙ্খলা এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অভ্যন্তরীণভাবে সমাজে বিভেদ তৈরি করতে পারে এমন যেকোনো ধরণের বক্তব্য বা অবস্থান মূলত শত্রুদের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তা করে। এছাড়া পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না এবং আন্তর্জাতিক আলোচনাপ্রক্রিয়ায় দেশের সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে অত্যন্ত কড়া সুরক্ষায় একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন এবং বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ খুবই সীমিত। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে গত রবিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বোচ্চ নেতার কাছে যেকোনো তথ্য পৌঁছানোর জন্য অত্যন্ত জটিল এক বার্তাবাহক প্রক্রিয়ার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বে থাকা ইরানি কূটনীতিকেরাও নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার কারণে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারছেন না, যার ফলে আলোচনা প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন থেকে কোনো প্রস্তাব পাঠানো হলে তা সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে এবং সেখান থেকে ফিরতি জবাব আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। দুজন মার্কিন কর্মকর্তার সূত্রে সিবিএস আরও জানায়, সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতটাই গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে যে তেহরানের উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তাও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন এবং তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কোনো সুযোগ তাদের নেই।