ভারতকে বড় অর্থনৈতিক প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অতীতে চীনের বেলায় করা ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না ওয়াশিংটন। চীনকে এক সময় যে ধরনের বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, ভারতের ক্ষেত্রে তেমনটি হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডউ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভারতের ভূ-রাজনীতি ও ভূ-অর্থনীতি বিষয়ক প্রধান সম্মেলন ‘রাইসিনা ডায়ালগ’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন।
ক্রিস্টোফার ল্যান্ডউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অসীম সম্ভাবনার বিকাশে পাশে থাকতে আগ্রহী। তবে একই সাথে নয়াদিল্লিকে এটিও মনে রাখতে হবে যে, দুই দশক আগে চীনের সাথে আমেরিকা যে ধরনের নীতি গ্রহণ করেছিল, ভারতের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন ঘটবে না। একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের আলোচনার মধ্যেই মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন মন্তব্য ভারতের প্রতি ওয়াশিংটনের কঠোর ও সতর্ক অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক ইস্যু ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে ভারতকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ল্যান্ডউ জানান, বর্তমান ও দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ভারত কোনো সুনির্দিষ্ট পক্ষ না নিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত করতে আগ্রহী দেশটি।
সম্প্রতি কয়েক দফার আলোচনার পর ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শুল্ককে একটি বড় দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে হোয়াইট হাউস। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে ভারতের জন্য এই দরকষাকষি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।