বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

‘ট্যাক্স হলিডে কালচার কন্ট্রোল করতে পারছে না সরকার’

কর রেয়াতের সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, কর কম হোক বা বেশি—সবাইকে কর দিতে হবে। আমরা আর এই ট্যাক্স হলিডে কালচার কন্ট্রোল করতে পারছি না।

‘ট্যাক্স হলিডে কালচার কন্ট্রোল করতে পারছে না সরকার’
ছবি: সংগৃহীত

কর রেয়াতের সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, কর কম হোক বা বেশি—সবাইকে কর দিতে হবে। আমরা আর এই ট্যাক্স হলিডে কালচার কন্ট্রোল করতে পারছি না।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিইএ), বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ারস (বিএমএটিএস)সহ মোট ১০টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটার সাইড এফেক্ট অনেক বেশি। আমাদের দেশের একটা গ্রুপের নানা ধরনের ব্যবসা থাকে। ওনাদের ইন্ডাস্ট্রি, মিডিয়া থেকে শুরু করে নানারকম ব্যবসা থাকে। কোন একটা জায়গায় ট্যাক্স ছাড় দেওয়া হলে তখন সব ব্যবসা ওই জায়গায় চলে যায়। এই জিনিসগুলো বুঝতে হবে। এগুলো কিন্তু লিকেজ তৈরি করে টোটাল সিস্টেমে।’

তিনি আরও বলেন, এই কারণেই ধীরে ধীরে কর রেয়াতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ‘ট্যাক্স কম হোক বেশি হোক সবাইকে দিতে হবে। ট্যাক্স দিয়ে তারপরে আপনি দেখবেন যে আপনার নেট প্রফিট যদি ইতিবাচক ও টেকসই হয় এই ব্যবসায় আসবেন। নাহলে আসবেন না। কিন্তু ট্যাক্স হলিডে দিলে ব্যবসা করবো, নাহলে ব্যবসা করবো না এইখান থেকে ফিতে হবে আমাদের।’

সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ও এএইচ ইলেকট্রিক কোম্পানির স্বত্বাধিকারী হারেস মোহাম্মদ বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু পূর্বের রিটার্নগুলো সিস্টেমে হালনাগাদ না থাকায় অনলাইনে জমা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, হালনাগাদ প্রক্রিয়াটি জটিল এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাইয়ের কারণে বিলম্ব হচ্ছে।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করার লক্ষ্যেই অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। পূর্বে জমা দেওয়া ম্যানুয়াল রিটার্ন করদাতাদের নিজ উদ্যোগে সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।’

তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘কোথায় কত রিটার্ন ঝুলে আছে, কী কারণে আটকে আছে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের ডেকে দ্রুত সমাধান করতে হবে।’

একই সঙ্গে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সীমা ৩১ মার্চ পেরিয়ে গেলেও যেসব রিটার্ন এখনও নিষ্পত্তিহীন রয়েছে, সেগুলোর কারণ খুঁজে দ্রুত সমাধান করতে হবে। কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় করদাতাদের খোলামেলা মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আপনারা নির্দ্বিধায় সমস্যাগুলো তুলে ধরুন, আমরা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ভ্যাট ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাবও তুলে ধরেন তারা।