আধুনিক প্রচার কৌশল ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় সঠিক উপাত্ত বা ডাটার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ছাড়া যেকোনো তথ্যই স্রেফ মানুষের ব্যক্তিগত মতামতের বাইরে কিছু নয়। সঠিক উপাত্তের অনুপস্থিতিতে যেকোনো ধরনের জনসংযোগ বা প্রচারণার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতায় সরকারের উন্নয়নমূলক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে জনসংযোগ কর্মকর্তাদের শতভাগ বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে রবিবার সকালে আয়োজিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কাজের মূল্যায়ন ও সরকারি বার্তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করার তাগিদ দিয়ে বলেন, এখনকার সময়টি পুরোপুরি নিখুঁত পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভরশীল। কেবল মুখের কথা কিংবা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে মাঠপর্যায়ের কাজের প্রকৃত চিত্র বা সাফল্য নিরূপণ করা একেবারেই অসম্ভব। তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সত্যতা প্রমাণের জন্য তার পেছনে অকাট্য প্রমাণ বা উপাত্ত থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো ধরনের উপাত্ত ছাড়া তথ্য পরিবেশন করলে সমাজ সেটিকে কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবেই বিবেচনা করবে, প্রাতিষ্ঠানিক বা বস্তুনিষ্ঠ দিক থেকে যার কোনো আলাদা গুরুত্ব থাকবে না।
বর্তমান যুগের ডিজিটাল সুবিধা ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের গুরুত্ব উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমের কন্টেন্ট পর্যালোচনা করে এখন খুব সহজেই নিখুঁত তথ্য বের করা সম্ভব। যেকোনো সংবাদ বা তথ্যে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া, যেমন লাইক, ডিসলাইক কিংবা মতামতের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে জনমতের আসল গ্রাফটি সহজেই তৈরি করা যায়। জনসংযোগ কর্মকর্তাদের এই আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও উপাত্তকে কাজে লাগিয়েই যেকোনো ধরনের নেতিবাচক অপপ্রচার রুখে দিতে হবে এবং জনগণের মাঝে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে।
তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিজেদের দক্ষ ডিজিটাল শক্তি হিসেবে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন এবং অর্জনের খতিয়ান যদি পরিসংখ্যান ও উপাত্তের মাধ্যমে জনগণের কাছে তুলে ধরা যায়, তবে সেই সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বৃদ্ধি পায়। এই উপাত্তনির্ভর প্রচারণাই সমাজে চলমান সব বিভ্রান্তি দূর করে জনগণের মনে সঠিক এবং পরিষ্কার ধারণা তৈরি করতে সক্ষম।
তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম এবং মো. ইয়াসীন উপস্থিত ছিলেন।