বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৫০০

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে সৃষ্ট বিপর্যয় দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা, যা ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনে গিয়ে ঠেকেছে।

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৫০০
ছবি : সংগৃহীত

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে সৃষ্ট বিপর্যয় দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা, যা ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনে গিয়ে ঠেকেছে।

নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা অবিরাম তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ধসে পড়া ঘরবাড়ির স্তূপ থেকে এখনও জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার ক্ষীণ আশায় দিনরাত কাজ করছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় স্বজনহারা পরিবারগুলোর মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চারিত হচ্ছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে উপকূলীয় প্রদেশ লা গুয়াইরা, যার অবস্থান দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে উত্তর দিকে আনুমানিক ৪০ কিলোমিটার দূরে। সেখানকার শত শত বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৭৪টি স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে।

দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ধ্বংসাবশেষের নিচে প্রাণের অস্তিত্ব মেলার সম্ভাবনা থাকবে, ততক্ষণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পুনর্বাসনের উপযুক্ত কিনা, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ভূত সংকট বিবেচনায় লা গুয়াইরা অঞ্চলের সমস্ত স্কুল-কলেজ আরও এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারি হিসাব মতে, এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ১৫০ জন নাগরিক এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ১২ হাজার ৭২১ জন মানুষ। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জনকে জীবিতাবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এমনকি রোববারও একটি ধসে যাওয়া কাঠামোর নিচ থেকে এক বাবা ও তার সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় বের করে এনেছেন উদ্ধারকারীরা।

তবে সরকারি এই হিসাবের বাইরে ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে দেশটির বিরোধী দল সমর্থিত একটি গণমাধ্যম। তাদের দাবি অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কোনো খোঁজ মিলছে না। এরই মধ্যে মূল কম্পনের পর দফায় দফায় আফটারশক বা অনুকম্পন হতে থাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলার একই অঞ্চলে এবং অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে যথাক্রমে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘যুগ্ম ভূমিকম্প’ আঘাত হানে। বিগত সোয়া এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ও তীব্র ভূকম্পন হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে হাইতিতে সমমাত্রার একটি ভূমিকম্পে ২ লক্ষাধিক এবং ২০০৫ সালের অক্টোবরে কাশ্মীরে প্রায় ৭৩ হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।