সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ভুয়া তথ্যের দায়ে বাতিল ৯ প্রার্থীর মনোনয়ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের তিনটি আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন প্রশাসন।

ভুয়া তথ্যের দায়ে বাতিল ৯ প্রার্থীর মনোনয়ন
ছবিঃ সংগ্রহীত

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের তিনটি আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন প্রশাসন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৩ (সদ্বীপ) আসনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি চারজন প্রার্থীকে তথ্য ঘাটতি পূরণের জন্য নির্ধারিত সময় দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে ভুয়া ও জাল স্বাক্ষরের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। চট্টগ্রাম-৩ (সদ্বীপ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলার ক্ষেত্রে দৈবচয়নের মাধ্যমে যাচাই করা ১০ জন ভোটারই স্বাক্ষরের সত্যতা অস্বীকার করেন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই)

এই আসনে যাচাই-বাছাইয়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফ সিদ্দিকির মনোনয়নপত্র ঘিরে। প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় একজন মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর দলীয় মনোনয়ন না থাকায় তার প্রার্থিতাও বাতিল হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্যমতে, সাতজন প্রার্থী স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, যা যাচাই-বাছাইয়ের সময় গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহা. এরশাদ উল্লাহ নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়।

এই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে টিকে গেছেন সাতজন। তারা হলেন— বিএনপি মনোনীত নুরুল আমিন, জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল-রেজি-৪০) থেকে শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জেএসডির একেএম আবু ইউসুফ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি)

ফটিকছড়ি আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে। এতে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয় এবং চারজনকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থী আহম্মদ কবির এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন— জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নুরুল আমিন, বিএনপির সরওয়ার আলমগীর এবং জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী।

জিন্নাত আক্তারের জমা দেওয়া ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের মধ্যে দৈবচয়নের মাধ্যমে যাচাই করা ১০ জনের মধ্যে আটজনই স্বাক্ষর অস্বীকার করেন। ফলে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে আহম্মদ কবিরের মনোনয়নপত্রে প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় নির্বাচন বিধিমালার ১২ (ক-১) ধারা অনুযায়ী তা বাতিল হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব দলীয় মনোনয়ন ও হলফনামা দাখিল না করায় তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়।

সময় পাওয়া প্রার্থীরা হলেন— সুপ্রিম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ ও মো. ওসমান আলী এবং গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান। তথ্য ঘাটতি পূরণে বিকাল ৪টার মধ্যে উপস্থিত না হলে তাদের মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে জানানো হয়।

চট্টগ্রাম-৩ (সদ্বীপ)

সদ্বীপ আসনে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বাতিল প্রার্থীরা হলেন— জাতীয় পার্টির এম এ ছালাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমজাদ হোসেন।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা ও জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আলা উদ্দিন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ ছালাম দলীয় মনোনয়ন হিসেবে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের স্বাক্ষরিত চিঠি জমা দেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী জিএম কাদেরের স্বাক্ষরিত মনোনয়নই বৈধ হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা ঋণখেলাপি হওয়ার পাশাপাশি ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের সত্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমজাদ হোসেন দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য হলফনামায় গোপন করার বিষয়টি স্বীকার করায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

মনোনয়ন যাচাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন,
“আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। আন্তর্জাতিক মহলে দেখিয়ে দিতে চাই, আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পারি। সব প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত যেন তারা আচরণ বিধি মেনে চলেন।”

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-৩ আসনে ১০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন।