সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পাশে দাঁড়াতে ফ্রান্সের নতুন উদ্যোগ

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধবিগ্রহে বিপর্যস্ত সিরিয়ার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং অবকাঠামোগত পুনর্গঠনে একসঙ্গে কাজ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স ও সিরিয়া।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পাশে দাঁড়াতে ফ্রান্সের নতুন উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধবিগ্রহে বিপর্যস্ত সিরিয়ার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং অবকাঠামোগত পুনর্গঠনে একসঙ্গে কাজ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স ও সিরিয়া।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দামেস্কে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা এই বিষয়ে একটি যৌথ সমঝোতায় পৌঁছান। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম কোনো ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধান সিরিয়া সফর করলেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও সিরিয়ার অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দামেস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে অনুষ্ঠিত সিরিয়া-ফ্রান্স ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সামগ্রিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে সমন্বয় রক্ষা করে একটি যৌথ অর্থনৈতিক কমিটি গঠন করা হবে। এর পাশাপাশি সিরিয়ার ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতকে সচল করা, জ্বালানি সংকটের সমাধান, ধসে পড়া অবকাঠামো মেরামতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ফ্রান্স সরাসরি কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা দেবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বৈঠক পরবর্তী এক বিবৃতিতে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা বলেন, আন্তর্জাতিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সম্পন্ন একটি আধুনিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে সিরিয়া। এই নতুন মহাপরিকল্পনার আওতায় বেসামরিক উড়োজাহাজ বহর নবায়ন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর যথাযথ পরিচালনা ও দেশের আকাশপথ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হবে। একই সাথে সমুদ্রাঞ্চলে নতুন জ্বালানি খনিজ অনুসন্ধান এবং বিদ্যুৎ, পানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও নাগরিক নিবন্ধন ব্যবস্থার মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলোর খোলস পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফরাসি বহুজাতিক শিপিং ও লজিস্টিকস কোম্পানি সিএমএ সিজিএম ইতিমধ্যেই প্রায় ২৩ কোটি ইউরো ব্যয়ে সিরিয়ার অন্যতম প্রধান লাতাকিয়া বন্দর উন্নয়নের চুক্তি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বন্দরের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত ২০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক পর ফ্রান্স ও সিরিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক বরফ গলতে শুরু করল, যা দেশটির নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে।