যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড এলাকার নিকটবর্তী রেলপথে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় একটি ট্রেনের চালক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আশিরও বেশি আরোহী। চিকিৎসাধীন যাত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় গত শুক্রবার শেষ বিকেলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আঞ্চলিক জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সংস্থা ইস্ট ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহতদের মধ্যে এগারো জনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং ২২ জন মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়েছেন। এছাড়া বাকি ৫৬ জন যাত্রী আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
রেলপথ পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন দুটিই দক্ষিণ লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস টার্মিনালের অভিমুখে যাত্রা করছিল। বিকেল সোয়া পাঁচটা নাগাদ বেডফোর্ড শহরের বহির্ভাগে ট্রেন দুটির মধ্যে মুখোমুখি বা পাশ্ববর্তী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসন দ্রুততার সাথে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
লন্ডন পুলিশ তাদের এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই দুঃখজনক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, চালকের প্রাণহানি এবং বহু যাত্রী আহত হওয়ার খবরটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেডফোর্ডের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে লন্ডন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যৌথভাবে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের অতি দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের জন্য দুর্ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত জরুরি যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য রেলওয়ের পূর্ব মিডল্যান্ড জোনের দেওয়া তথ্যমতে, শুক্রবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে নটিংহ্যাম থেকে একটি ট্রেন সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। প্রায় একই সময়ে করবি নামক শহর থেকে অপর একটি ট্রেন একই গন্তব্যের দিকে এগিয়ে আসছিল। কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা বা সংকেত পাওয়ার আগেই ট্রেন দুটি একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পিটার ন্যাপ নামের এক যাত্রী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সেই মুহূর্তের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে জানান, আকস্মিক ঝাঁকুনিতে তিনি নিজের আসন থেকে ছিটকে পড়েন এবং চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। চারদিকে যাত্রীদের আর্তনাদ ও কান্নায় এক চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি আরও জানান, আঘাতের তীব্রতায় অনেকের হাত-পা ভেঙে গেছে এবং অনেকেই কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন।