অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের তীব্র সমালোচনা করে তাকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘মব বাহিনীর সেনাপতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আসিফ নজরুলের সঙ্গে দীর্ঘ ১৪ বছরের বন্ধুত্বের একটি স্মৃতি শেয়ার করে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।
আনিস আলমগীর তার পোস্টে উল্লেখ করেন, আশির দশকের শেষভাগ থেকে আসিফ নজরুলের সঙ্গে তার পরিচয় এবং একসময় তিনি তার লেখালেখির গুণগ্রাহী ছিলেন। তবে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার পর আসিফ নজরুলের চারিত্রিক পরিবর্তন তাকে স্তম্ভিত করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যিনি একসময় অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও মানবাধিকারের কথা বলতেন, আজ তার সময়েই হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ কেবল রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে কারান্তরীণ হচ্ছে এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এমনকি এসব বন্দিদের জামিন প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার পেছনেও উপদেষ্টার ভূমিকা ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
সম্প্রতি বিবিসি বাংলায় প্রচারিত আসিফ নজরুলের একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে এই সাংবাদিক বলেন, সেখানে উপদেষ্টাকে মিথ্যা বলার কৌশল আরও শাণিত করতে দেখা গেছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, সেখানে কার্যকর কোনো পাল্টা প্রশ্ন না থাকায় আসিফ নজরুল নিজের একপাক্ষিক অবস্থান ব্যাখ্যার সুযোগ পেয়েছেন। আনিস আলমগীরের মতে, এই সরকার এবং তার নীতিনির্ধারকরা দেশকে ঘৃণার সংস্কৃতির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, যার দায়ভার ড. ইউনূসের পরেই আসিফ নজরুলের ওপর বর্তাবে।
আনিস আলমগীর আরও লিখেন, বাকস্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার থাকা মানুষটি আজ অন্যের কারাবরণ নিয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব। ড. ইউনূস ও তার সহযোগীরা যেভাবে জাতিকে হতাশ করেছেন, ব্যক্তিগতভাবে আসিফ নজরুলও তাকে একইভাবে ব্যথিত করেছেন। পোস্টের শেষাংশে তিনি মন্তব্য করেন, কথার চেয়ে কাজই শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের প্রকৃত চরিত্রের পরিচয় বহন করে এবং ইতিহাসে আসিফ নজরুলের নাম একজন ‘তথ্য সন্ত্রাসী’ ও ‘মব বাহিনীর সেনাপতি’ হিসেবেই লেখা থাকবে।







