আর্কাইভ
ads
logo

১০০ ফুট হিমবাহে ‘বন্ধ হয়ে গেল’ এভারেস্টে উঠার পথ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০০ পি.এম
১০০ ফুট হিমবাহে ‘বন্ধ হয়ে গেল’ এভারেস্টে উঠার পথ

ছবি : সংগৃহীত

ads

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আসা আরোহীরা চলতি মৌসুমের শুরুতেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের মুখে পড়েছেন। নেপাল অংশের বেস ক্যাম্প থেকে ওপরের দিকে যাওয়ার প্রধান পথে একটি বিশাল হিমবাহের খণ্ড বা সেরাক আড়াআড়িভাবে ধসে পড়ায় পথটি পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ১০০ ফুট উচ্চতার এই বরফখণ্ডটি ক্যাম্প-১ এর ঠিক নিচেই অবস্থান করছে, যা এ বছরের আরোহণ সূচিকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

পর্বতারোহীদের জন্য দুর্গম পথে দড়ি ও মই বসানোর দায়িত্বে থাকা দক্ষ শেরপা দল, যারা আইসফল ডাক্তার হিসেবে পরিচিত, তারা জানিয়েছেন যে বর্তমানে এই বিশাল বরফখণ্ডটি এড়িয়ে যাওয়ার মতো নিরাপদ কোনো বিকল্প পথ নেই। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বাধাটি প্রাকৃতিকভাবে গলে যাওয়া কিংবা ভেঙে পড়ার অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত আর কোনো উপায় নেই। সাধারণত প্রতি বছর এপ্রিলের এই সময়ে ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত আরোহণের পথ প্রস্তুত হয়ে গেলেও এবার ক্যাম্প-১ এর নিচেই থমকে আছে সব প্রস্তুতি। এই বিলম্বের ফলে পুরো মৌসুমের সূচি অন্তত কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নেপালের প্রখ্যাত পর্বতারোহী পূর্ণিমা শ্রেষ্ঠা বেস ক্যাম্প থেকে জানিয়েছেন যে আরোহীরা সাধারণত চূড়ান্ত অভিযানের আগে বিভিন্ন ক্যাম্পের মধ্যে ওঠানামা করে নিজেদের শরীরের সক্ষমতা যাচাই করে নেন। কিন্তু পথ খুলতে দেরি হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে চূড়ায় ওঠার সময় আরোহীদের ভিড় বা ট্রাফিক জ্যাম হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। এভারেস্টের বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প-২ পর্যন্ত পথ তৈরির সমন্বয়ক ছেরিং তেনজিং শেরপার মতে, বরফখণ্ডটি সরানোর জন্য কৃত্রিম কোনো পদ্ধতি এখন পর্যন্ত কার্যকর বলে প্রতীয়মান হয়নি। অন্যদিকে আইসফল ডাক্তার আং সার্কি শেরপা ধারণা করছেন যে বরফটির নিচের অংশ দুর্বল হয়ে পড়ায় এটি দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে, তবে এর পাশ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের পর্যটন বিভাগ বর্তমানে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সরঞ্জাম ও দড়ি স্থাপনকারী দলকে সরাসরি ক্যাম্প-২ এর কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে। এতে অন্তত উপরের অংশের কাজ এগিয়ে রাখা সম্ভব হবে। তবে এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আরোহণের জন্য নির্ধারিত সময় সংকুচিত হয়ে আসছে। মে মাসের শেষ দিকে সাধারণত আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, কিন্তু হাতে সময় কম থাকায় বিপুল সংখ্যক আরোহী যখন একসঙ্গে চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করবেন, তখন পাহাড়ের ওপরে আবারও বিপজ্জনক জনজটের সৃষ্টি হতে পারে।

চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩৬৭ জন পর্বতারোহী এভারেস্ট জয়ের অনুমতি নিয়েছেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশই চীনের নাগরিক। উল্লেখ্য যে ২০১৯ সালে চূড়ার কাছে মানুষের দীর্ঘ সারির ছবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলার পর নেপাল সরকার অনুমতি প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করে এবং ফি বৃদ্ধি করে। বর্তমানে বিদেশিদের জন্য এই আরোহণ ফি বাড়িয়ে ১৫ হাজার ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন সবার নজর পাহাড়ের সেই রুটে, যেখানে প্রকৃতির এই বিশাল বাধাটি অপসারিত হওয়ার ওপর নির্ভর করছে শত শত আরোহীর এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ