ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগে আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রযুক্তি জায়ান্টটির বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছে দেশটির স্বনামধন্য আইনি সংস্থা ‘টাইকো অ্যান্ড জাভারেই এলএলপি’ ও ‘টেক জাস্টিস ল’।
মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ধোঁকা দিয়ে এবং প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ করে দীর্ঘদিন ধরে বড় অংকের রাজস্ব আদায় করছে মেটা। ২০২৪ সালের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মোট উপার্জনের প্রায় ১০ শতাংশ বা প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে মূলত নিষিদ্ধ ও জালিয়াতিপূর্ণ বিজ্ঞাপনের উৎস থেকে। নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন ব্যবহারকারীরা গড়ে প্রায় ১৫ বিলিয়ন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিজ্ঞাপনের সম্মুখীন হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, এসব বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে সাধারণের তুলনায় চড়া মূল্য নেওয়া হলেও গ্রাহকদের করা ৯৬ শতাংশ জালিয়াতির অভিযোগই মেটা নাকচ করে দিয়েছে।
টেক জাস্টিস ল’র আইনজীবীদের মতে, মেটা মুখে প্রতারণা রোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এটি তাদের একটি ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত হয়েছে। অধিক মুনাফার লোভে তারা এসব অসাধু বিজ্ঞাপনদাতাদের প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে।
অবশ্য মেটা কর্তৃপক্ষ এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, এই অভিযোগগুলো বাস্তবতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং তারা আদালতে নিজেদের নির্দোষিতা প্রমাণ করবেন। তিনি আরও যোগ করেন, মেটা নিয়মিতভাবে প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। গত এক বছরে তারা ১৫ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি ভুয়া বিজ্ঞাপন অপসারণ করেছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিজ্ঞাপন কোনো অভিযোগ পাওয়ার আগেই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।







