যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা আর নাগরিক কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে পর্যটকরা এখন বেছে নিচ্ছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নিভৃত প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা ‘ক্যামেলিয়া লেক’। চা-বাগানের মাঝখানে অবস্থিত এই লেকটি পাহাড়, সবুজ টিলা আর স্বচ্ছ পানির এক অসাধারণ মায়াবী সমন্বয়ে পর্যটকদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
লেকের নামকরণের পেছনে লুকিয়ে আছে চা-শিল্পের এক চমৎকার ইতিহাস। চা-গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘ক্যামেলিয়া সিনেনসিস’ থেকেই এই লেকের নাম রাখা হয়েছে। মূলত ব্রিটিশ আমলে চা-বাগানের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে এটি খনন করা হয়েছিল, যা বর্তমানে এক অনন্য পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বচ্ছ জলের ওপরে নীল আকাশের ছায়া এবং চারদিকের উঁচু-নিচু টিলায় সুবিন্যস্ত চা-বাগান মিলে এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন লেক যেমন এক রহস্যময় রূপ ধারণ করে, তেমনি গোধূলিবেলায় সূর্যের সোনালি আভা লেকের পানিতে পড়ে তৈরি করে অপূর্ব দৃশ্যপট। প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্যের কারণে শৌখিন ফটোগ্রাফারদের কাছে জায়গাটি এখন ‘ন্যাচারাল স্টুডিও’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। অন্যান্য জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের তুলনায় এখানকার নিস্তব্ধতা ভ্রমণপিপাসীদের অন্যরকম মানসিক প্রশান্তি দেয়।
ভ্রমণের উপায় ও আশপাশের গন্তব্য: ঢাকা বা দেশের যে কোনো স্থান থেকে বাস অথবা ট্রেনে শ্রীমঙ্গল হয়ে মৌলভীবাজারে যাতায়াত করা যায়। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশা বা নিজস্ব গাড়িতে করে সহজেই কমলগঞ্জের এই লেকে পৌঁছানো সম্ভব। ভ্রমণকারীরা একই দিনে ক্যামেলিয়া লেকের পাশাপাশি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবপুর লেকের সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা প্রকৃতির এই স্নিগ্ধতা ও সৌন্দর্য রক্ষায় পর্যটকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। লেকের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলা এবং উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক নীরবতা নষ্ট না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এক দিনের সংক্ষিপ্ত ভ্রমণে মানসিক ক্লান্তি দূর করতে ক্যামেলিয়া লেক হতে পারে এক চমৎকার গন্তব্য।







