সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পদ বাণিজ্যের অভিযোগে শিবিরের ‘সাথী’ পদ হারান রাকসু জিএস আম্মার

ওই চিঠিতে বলা হয়, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে আম্মারের ‘সাথী’ পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত হয়।

পদ বাণিজ্যের অভিযোগে শিবিরের ‘সাথী’ পদ হারান রাকসু জিএস আম্মার
চিত্র: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে ২০২৫ সালেই ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগসহ একাধিক সাংগঠনিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তাঁর পদ বাতিল করা হয়।

এতদিন এ তথ্য প্রকাশ্যে না এলেও আজ বুধবার তা নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। এ দিন সন্ধ্যায় মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। কিছু অনিয়মের অভিযোগে সালাউদ্দিন আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষর করা চলতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের একটি চিঠিতে সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে আম্মারের ‘সাথী’ পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত হয়।

উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে তার ‘সাথী’ পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আম্মারের কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাঁর ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে সংগঠনের নেতাকর্মীদের তার অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের ইতিবাচক বা নেতিবাচক মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে দাপ্তরিক সম্পর্ক রাখার কথা বলা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমানে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষর করা একটি চিঠিতেও সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

ওই চিঠিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের অভিযোগ নিয়ে শাখার ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আলোচনা হয়।

সভায় আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগ আমলে নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার ‘সাথী’ পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তার বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর মধ্যে নৈতিক পদস্খলন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আম্মারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।