সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বাংলাদেশে সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে আল-কায়েদা

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র সাংগঠনিক ইউনিট বা সেল গঠনে তৎপরতা চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস)।

বাংলাদেশে সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে আল-কায়েদা

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র সাংগঠনিক ইউনিট বা সেল গঠনে তৎপরতা চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস)।

বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী নিষেধাজ্ঞার ওপর নজরদারিতে নিয়োজিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং টিম সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো একিউআইএসের এই আঞ্চলিক সম্প্রসারণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে।


জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সহায়ক কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসে ভারতের দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা এলাকায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক গাড়ি বোমা হামলার পেছনে ছিল এই একিউআইএস। সেই প্রাণঘাতী সহিংসতার পর এখন তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডেও কার্যক্রমের বিস্তার ঘটাতে চাইছে। ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে উঠে আসে যে, দিল্লির সেই হামলায় যুক্ত উগ্রবাদী গোষ্ঠীটি একিউআইএসের অঙ্গসংগঠন হিসেবে সক্রিয় ছিল। ঘটনার মাস্টারমাইন্ড এক চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষক নিজেই ওই বিস্ফোরণে প্রাণ হারান, যাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন মোট ১১ জন।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, একিউআইএস এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ক্ষুদ্র দল নয়, বরং এটি দ্রুত শক্তিশালী আঞ্চলিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত হচ্ছে। সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম কোনো একক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট বিকেন্দ্রীভূত সেল গঠন এবং আর্থিক ও কৌশলগত সহায়তা সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই জঙ্গি গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা বর্তমানে আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন এবং সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের কাঠামোগত সুবিধাও লাভ করছেন।

এর বাইরেও প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা বাড়ানো এবং নতুন জোট গঠনে একিউআইএসের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। মনিটরিং টিমের প্রতিবেদনে অন্যতম উদ্বেগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আল-কায়েদা ও আইএসের বৈশ্বিক শাখাগুলোর রাসায়নিক ও জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরির তৎপরতা। অনুসারীদের বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান তৈরির নির্দেশনাসহ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত কিছু পরিকল্পনার তথ্যও আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এসেছে বলে জাতিসংঘ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।