রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির

বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংকট তুলে ধরে ওআইসি মহাসচিব সতর্ক করেন যে, এ মানবিক বিপর্যয়ের দ্রুত ও স্থায়ী মীমাংসা নিশ্চিত করা না গেলে গোটা অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে, যার বিরূপ প্রভাব পড়বে বিশ্বমঞ্চেও।

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও অবিলম্বে নিজভূমে প্রত্যাবর্তনের উদ্যোগে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি সবসময় ঢাকার পাশে অবিচল থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংস্থাটির নতুন মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

সৌদি আরবের বাণিজ্যিক নগরী জেদ্দায় অবস্থিত ওআইসির সদর দফতরে মহাসচিবের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাবেদ এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

উক্ত আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে নতুন মহাসচিবের কাছে একটি শুভেচ্ছা বার্তা তুলে দেন রাষ্ট্রদূত জাবেদ। মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি নতুন কার্যমেয়াদে ঢাকা সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংকট তুলে ধরে ওআইসি মহাসচিব সতর্ক করেন যে, এ মানবিক বিপর্যয়ের দ্রুত ও স্থায়ী মীমাংসা নিশ্চিত করা না গেলে গোটা অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে, যার বিরূপ প্রভাব পড়বে বিশ্বমঞ্চেও। আলাপকালে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মসৃণ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রত্যাশা জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী নির্দেশনায় দেশের উন্নয়ন ও সামগ্রিক সংস্কার কর্মসূচি আরো গতিশীল হবে।

গাজীপুরে পরিচালিত ওআইসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) শিক্ষা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের প্রযুক্তিগত শিক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানটি মূল্যবান ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাছাড়া দায়িত্ব গ্রহণের পর তার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফরের তালিকায় বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে উভয় পক্ষই একমত হন যে, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের সর্বোচ্চ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক লেনদেন ও বাণিজ্য আরো বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক কৃষি, চিকিৎসা ব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান, পর্যটন ও উচ্চশিক্ষার মতো অঙ্গনে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে সমন্বিত বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরির বিপুল অবকাশ রয়েছে।

বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতি এমন ইতিবাচক ও আন্তরিক মনোভাব প্রদর্শনের জন্য ওআইসি মহাসচিবকে কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত জাবেদ। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল অভিন্ন বিষয়ে ওআইসি সচিবালয়ের সঙ্গে আগামী দিনেও সমন্বিতভাবে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ।