নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সুন্দলপুর-৪ গ্যাস কূপে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে নির্ধারিত খননকাজ শেষে কূপে স্থাপন করা পাইপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) তত্ত্বাবধানে গত ২৯ জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু হয়। সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত সুন্দলপুর-৪ কূপটি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ হিসেবে খনন করা হয়েছে।
এর আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় একই গ্যাসক্ষেত্রের আওতায় সুন্দলপুর-১, ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হয়েছিল। নতুন কূপটি সেনবাগে হলেও একই ভূগর্ভস্থ গ্যাসক্ষেত্র কাঠামোর অংশ হওয়ায় এর নাম সুন্দলপুর-৪ রাখা হয়েছে।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, কূপটিতে ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি (মেজারিং হোয়াইল ড্রিলিং) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১ হাজার ৫৭৮ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতায় গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর বর্তমানে কূপটিতে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) চলছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হলে কূপটির গ্যাসের মজুত ও উত্তোলন সক্ষমতা সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
প্রাথমিক হিসাবে, কূপটি থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে। পরে পাইপলাইনের মাধ্যমে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, সুন্দলপুর-৪ গ্যাস কূপে গ্যাসের উপস্থিতি আগেই পাওয়া গিয়েছিল। তবে খননকাজ শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার কূপে স্থাপন করা পাইপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ডিএসটি পরীক্ষা শেষ হলে কূপটিতে মোট কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।