জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পরিবহন চালক মো. হোসেন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন চূড়ান্ত করার কার্যক্রম পিছিয়ে গেছে।
আসামিপক্ষের সবার সশরীরে হাজিরা নিশ্চিত না হওয়ায় বিচারক আগামী ১ সেপ্টেম্বর নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন। তবে এ কার্যক্রমে উপস্থিত থাকা পলকের সঠিক চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তার নিয়োজিত আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলমের এজলাসে উক্ত পর্যালোচনার দিন ধার্য ছিল। নির্ধারিত দিনে কারাবন্দী সাবেক প্রতিমন্ত্রীকে হাজির করা হলেও জামিনে থাকা সত্ত্বেও অন্য সংক্রান্ত মামলায় আটক থাকা কয়েকজন অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতির কারণে সার্বিক শুনানির কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সকল আসামির হাজিরা সুনিশ্চিত করতে তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির আর্জি জানানো হলে আদালত আগামী মাসের প্রথম দিন নির্ধারণ করেন।
কারাগারে থাকা সাবেক প্রতিমন্ত্রীর আইনগত প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জানান, তার মক্কেল দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি জীবনযাপন করছেন। ইতিপূর্বে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলে তা অনুমোদন করা হয়েছিল। তবে আদালতের সেই নির্দেশনা সত্ত্বেও কারাগারে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে নতুন করে শুনানি কক্ষে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় পরিবহন চালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই নালিশি মামলা গঠন করা হয়। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর এই বিচারিক বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।