কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’সহ ঢাকার চারটি বারে অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা।
শনিবার সন্ধ্যায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়।
অন্য তিন প্রতিষ্ঠান হলো—ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল ও মার্গারিটা লাউঞ্জ।
সিআইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্তোরাঁ, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ডিউটি ফ্রি শপে ‘অবৈধ উৎস’ থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য আনা, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ‘ফাঁকি’ এবং ‘অননুমোদিত’ গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিআইআইডি চারটি দল গঠন করেছে। অভিযানে তাদের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভ্যাট গোয়েন্দা) এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ গুলশানের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে যৌথ অভিযান চালায় সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত মদ ‘অননুমোদিত’ দুটি গুদামে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগে টস বন্ডের ওই দুটি গুদামসহ দুটি বৈধ গুদামও সিলগালা করা হয়।
এনবিআর কর্মকর্তারা শেখ নূর ইসলামকে ওই ওয়্যারহাউজের মালিক বলে উল্লেখ করলেও ফু-ওয়াং জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই।
দেশে মদ ও বার ব্যবসায় অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি কানাডায় নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের নাগরিকত্ব এবং সম্পদের তথ্য পাওয়ার বিষয়েও কর আদায়ের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছিল।
সম্প্রতি ঢাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের দায়ী করার পর তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার হয়।
এদিকে ফু-ওয়াংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নুর ইসলামের কন্যা দিশা ইসলামের বিয়ে শেখ নুর ইসলাম বা তার পরিবার মেনে নেননি।
“উক্ত বিয়ের পর থেকেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সকল প্রকার সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।”