বিদেশে অবস্থানকালে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক নিগ্রহের শিকার হওয়ার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার প্রশংসা করেন বাঁধন। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার পর থেকে ইতালির পুলিশ তাঁকে সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারিতে রেখেছিল এবং হোটেলের অভ্যর্থনাকক্ষ থেকে শুরু করে তাঁর প্রতিটি গন্তব্যে নিরাপত্তা দল সর্বদা পাশে ছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি সেখানে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন এবং দেশটির পুলিশ প্রশাসন শুরু থেকেই সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছে।
আক্রমণকারীদের উদ্দেশে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এই অভিনেত্রী বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে তারা চরম ভুল করেছে এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেদের জীবনকেই জটিলতার মধ্যে ফেলেছে। যারা ভেবেছে এমন অপরাধ করে রেহাই পাওয়া সম্ভব, তারা ভুল ভাবছে। কেবল দূর থেকে কটূক্তি, স্লোগান বা জল ছুড়ে মারার মতো ঘটনা নয়, বরং সরাসরি তাঁর ওপর শারীরিক আঘাত করা হয়েছে। এই ধরনের নিষ্ঠুর আচরণের অবসান হওয়া জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন হীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অভিযুক্তরা পরবাসে নিজেদের অবস্থানকেই অনিশ্চিত করে তুলেছে।
রাজনৈতিকভাবে অন্ধ না হতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাঁধন বলেন, উসকানিমূলক বার্তা দিয়ে যেসব শীর্ষ নেতা প্রবাসীদের বিভ্রান্ত করছেন, কোনো বিপদ হলে কিন্তু সেই দায় তাঁদের ওপর বর্তায় না, বরং ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবারকেই পরিণতি ভোগ করতে হয়। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠানো প্রবাসীদের কোনো নেতার কথায় প্ররোচিত হয়ে এমন অন্যায়ে না জড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালীয় পুলিশের কাছে বিধিসম্মত মামলা দায়েরের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানোর জন্য রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ইতালি সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।