ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ফজলুল হক মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার জের ধরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
হল প্রধানের দপ্তরে এক ছাত্রকে আটকে রেখে মানসিকভাবে হেনস্তা করা এবং জোরপূর্বক জবানবন্দি নেওয়ার অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক কক্ষ ঘেরাও করে তার পদত্যাগের দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে হল প্রধানকে উদ্ধার করতে ছাত্রদলের একটি অংশ সেখানে প্রবেশ করলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মীদের হামলায় হল সংসদের সহ-সভাপতি আবু নাঈম এবং সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হাসান সহ অন্তত ছয়জন শিক্ষার্থী গুরুতর আঘাত পান।
গত রোববার দিবাগত শেষ রাতে পৌনে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাঙ্গণে ঘটনাটি ঘটে। সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হাসানের শারীরিক অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং অবরুদ্ধ প্রাধ্যক্ষকে মুক্ত করতে রাতে ক্যাম্পাসের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিরা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এদের মধ্যে ছিলেন প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, শিক্ষা বিষয়ক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, প্রক্টরের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং এবং প্রক্টরিয়াল টিমের অন্যান্য সদস্যরা। তবে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের সাথে আগত ওই প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদেরও কিছু সময়ের জন্য সেই কক্ষে আটকে রাখেন।
পরবর্তীতে দুই উপ-উপাচার্য সেখান থেকে বের হয়ে এলেও প্রক্টরের পাশে গেটের মুখে অবস্থান নেন হল সংসদের সহ-সভাপতি আবু নাঈম ও সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ছাত্রদলের একদল কর্মী প্রতিপক্ষ বিরোধী নানা স্লোগান দিতে দিতে প্রাধ্যক্ষের দপ্তরের দিকে এগোতে থাকে। তাদের গতিবিধি দেখে হল সংসদের সহ-সভাপতি বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে ছাত্রদলের সদস্যরা চড়াও হন।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই মারামারির মাঝে পড়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং হলের একটি শক্ত খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খান। এরপর তাকে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। ঘটনার ভয়াবহতায় সাধারণ সম্পাদক রক্তাপ্লুত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সহ-সভাপতির পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে যায়। পরবর্তীতে অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করে জরুরি গাড়িতে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
সংঘর্ষের পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে হল প্রধানকে উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে গেলে পরিবেশ ধীরে ধীরে থিতিয়ে আসে।
মূল ঘটনার গোড়াপত্তন ঘটেছিল রোববার সন্ধ্যায়। হলের এক শিক্ষার্থীকে নিজের কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে তীব্র মানসিক প্রবৃত্তি প্রয়োগ ও জোর করে লিখিত স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ ওঠে হল প্রধানের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ সৃষ্টি হলে তারা পদত্যাগের একদফা দাবিতে প্রশাসনিক কক্ষ ঘেরাও করেন।
অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট হল প্রাধ্যক্ষ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে উদ্দেশ্য করে অনভিপ্রেত বক্তব্য প্রদান করায় ওই ছাত্রকে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল। নিজ ভুল বুঝতে পারায় তাকে অভিভাবকের সাথে কথা বলিয়ে দেওয়া হয় এবং চা-আপ্যায়ন শেষে সসম্মানে বিদায় করা হয়।