সোমবার, 21 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

৪১ ব্যাংকের সিএসআরের টাকা ‘আত্মসাৎ’, হাসিনা-রেহানার নামে মামলা

সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে এভাবে অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান না থাকার পরও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে’ ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

৪১ ব্যাংকের সিএসআরের টাকা ‘আত্মসাৎ’, হাসিনা-রেহানার নামে মামলা
শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ৪১টি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের’ নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ‘সংগ্রহ ও আত্মসাতের’ অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২-এর আওতায় গঠিত ওই ট্রাস্টের সভাপতি ছিলেন শেখ হাসিনা এবং সহসভাপতি ছিলেন শেখ রেহানা। মামলার অপর আসামি হলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন। পরে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা ‘পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে’ ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুকূলে সংগ্রহ করেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির সভায় নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি না থাকলেও ‘বিবিধ’ আলোচনায় ট্রাস্টকে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব তোলেন।

পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোন ব্যাংক কত টাকা দেবে, তা উল্লেখ করে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে দুদকের ভাষ্য।

মামলায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআরবিষয়ক নীতিমালায় এ ধরনের ট্রাস্টকে অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই। এজাহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের ১ জুনের ডিওএস সার্কুলার এবং ২০২২ সালে প্রকাশিত ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনসে’র নিয়মের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক বলছে, সরেজমিন পরিদর্শনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কোনো প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ‘ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে’ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন এবং বিএবির মাধ্যমে ‘প্রভাব বিস্তার করে’ ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে বিএবির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সভাপতি থাকার সময় তিনি শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।

সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে এভাবে অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান না থাকার পরও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে’ ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।