রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একনেক সভা শুরু

প্রকল্পের যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত থাকায় তা অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশন থেকে উপস্থাপন করার কথা ছিল। তবে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বিকল্প চিন্তা থাকায় চূড়ান্ত সায় পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আনুষ্ঠানিক সভা শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়

দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক রেল চালুর রূপরেখা নিয়ে এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণাংশ) শীর্ষক প্রকল্পটি আজকের সভার কার্যতালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনকারী ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার এই মেগা প্রকল্পটি তালিকায় থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা অনুমোদিত না হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত থাকায় তা অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশন থেকে উপস্থাপন করার কথা ছিল। তবে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বিকল্প চিন্তা থাকায় চূড়ান্ত সায় পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগী একটি দেশের অর্থায়নে পরিকল্পিত অন্য দুটি রেল নেটওয়ার্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার ভাবনা এবং এই প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ ওঠায় সরকার আপাতত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা ধীরনীতি অবলম্বন করতে পারে।

প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর অতিক্রম করে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই পথ। প্রায় সাড়ে সতেরো কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রুটে চলাচলে সময় লাগবে ২৮ মিনিটের মতো এবং ব্যস্ত সময়ে প্রতি সাড়ে চার মিনিট পর পর ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো পথের মধ্যে ১৩ কিলোমিটারের বেশি থাকবে মাটির নিচে এবং বাকি ৪ কিলোমিটারের কিছু বেশি অংশ উড়ালপথে নির্মিত হবে। মোট ১৫টি স্টেশনের মধ্যে ১১টি পাতাল ও ৪টি উড়াল স্টেশন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ভূগর্ভস্থ অংশের আধিক্যের কারণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা।

প্রাথমিক ধাপে ছয়টি বগির ১৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন দিয়ে সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যানজট নিরসনে সমন্বিত মেট্রোরেল ব্যবস্থার বিকল্প নেই, তবে এর পূর্ণাঙ্গ সুফল নির্ভর করছে সবকটি রুটের সফল বাস্তবায়নের ওপর।

প্রকল্পটির প্রাথমিক রূপরেখা নেওয়া হয়েছিল ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে, যেখানে বরাদ্দ ছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন খাতের ব্যয় কাটছাঁট করে তা ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় নামিয়ে আনে, যা পূর্বের চেয়ে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ কম। তবে এই সাশ্রয়ের একটি অংশ মূলত কৌশলগত সমন্বয়; কারণ বিদেশি ঋণের গ্রেস পিরিয়ড পরবর্তী সুদ ও প্রতিশ্রুত মাশুল বাবদ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার দায় সরাসরি প্রকল্প থেকে বাদ দিয়ে অর্থ বিভাগের নিয়মিত পরিশোধ প্রক্রিয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে ভূমির চাহিদাও ব্যাপকভাবে সংকুচিত করা হয়েছে। পূর্বে ২৩ হেক্টরের বেশি জমি অধিগ্রহণের কথা থাকলেও তা ৯ হেক্টরে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার ফলে জমি বাবদ খরচ কমবে প্রায় একশত কোটি টাকা। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন বাবদ ৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার বড় তহবিল বরাদ্দের প্রস্তাব বহাল রয়েছে।

মোট খরচের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে ধাপে ধাপে ছাড়ের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত মেয়াদি এই প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা, বিশদ নকশা ও দরপত্র সহায়তার কাজ আগেই শেষ হয়েছে। আজকের সভায় নীতিগত অনুমোদন মিললে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়নপর্ব শুরু হবে।