জাতীয়
জাতীয় অগ্রগতিতে মেধাবী কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান রিজভীর
দেশের উচ্চশিক্ষিত প্রকৌশলী ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। প্রতিভাবান ব্যক্তিবর্গের মেধার উপযুক্ত মূল্যায়নে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি থমকে যাবে এবং এর ফলে মেধা পাচারের প্রবণতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করেন তিনি
দেশের উচ্চশিক্ষিত প্রকৌশলী ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
প্রতিভাবান ব্যক্তিবর্গের মেধার উপযুক্ত মূল্যায়নে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি থমকে যাবে এবং এর ফলে মেধা পাচারের প্রবণতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
রাজধানীর রমনায় প্রকৌশলী প্রাঙ্গণে আয়োজিত 'জাতীয় প্রকৌশলী সম্মেলন-২০২৬'-এর মঞ্চ থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেন।
উন্নয়নশীল বিশ্বের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলো মূলত প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, বাস্তবমুখী শিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে চীনের উত্থানের নেপথ্যে কারিগরি শিক্ষা ও বিশেষজ্ঞ শ্রেণিকে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার নীতি কাজ করেছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, অনিয়ম কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব যেন যোগ্যতা প্রমাণের পথে অন্তরায় না হয়। স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে নীতি, নিরপেক্ষতা এবং যোগ্যতার মাপকাঠিতে রাষ্ট্রীয় পদগুলোতে কর্মকর্তাদের নিযুক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রযুক্তি, চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের নানামুখী শাখায় মৌলিক গবেষণার পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। কম্পিউটার সায়েন্স, কেমিক্যাল কিংবা মেরিন প্রযুক্তির মতো বিশেষায়িত খাতে উচ্চতর যোগ্যতা সম্পন্নদের উপযুক্ত পদায়ন ও তাদের জন্য কাজের পরিবেশ বিস্তৃত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের দেশের উৎপাদনে যুক্ত করতে অতীতে প্রবর্তিত বিশেষ মেধানীতি অনুসরণ করার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
দেশীয় প্রকৌশলীদের ঐতিহাসিক সাফল্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিস্তা সেচ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টানেন রিজভী আহমেদ। স্থানীয় অর্থায়ন ও দেশীয় কারিগরি জ্ঞান ব্যবহার করে নির্মিত এই অবকাঠামোকে তিনি বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের সামর্থ্যের বড় নিদর্শন বলে অভিহিত করেন।
বর্তমানে দেশে উচ্চতর কারিগরি শিক্ষা প্রদানকারী প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর বের হওয়া তৈরি তরুণদের কর্মসংস্থান, সম্মানজনক বেতন ও সার্বিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। বৈশ্বিক সংযোগ ও উন্মুক্ত কর্মক্ষেত্রের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এই প্রযুক্তিবিদদের উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় নীতিমালার আওতায় আনলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুততর হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।